মেধাবী ছাত্রের দেহ উদ্ধার ঘটনায় রাজ্য পুলিস ও সিআইডির তদন্তে শিলমোহর দিল সিবিআই - The News Lion

মেধাবী ছাত্রের দেহ উদ্ধার ঘটনায় রাজ্য পুলিস ও সিআইডির তদন্তে শিলমোহর দিল সিবিআই



দি নিউজ লায়নঃ   আট বছর আগে জল থেকে মেধাবী ছাত্রের দেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় কার্যতঃ রাজ্য পুলিস ও সিআইডির তদন্তে সিবিআই  শিলমোহর দিল। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১২ সালের ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ শহরের আলমগঞ্জ এলাকায় চিলড্রেন্স কালচারাল সেন্টারে সাঁতার কাটতে যান আনন্দপল্লির বাসিন্দা রমেন সামন্ত (২১)। তিনি শহরের বিবেকানন্দ কলেজে ইংরাজি অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। নির্দিষ্ট সময়ের পরও বাড়ি না ফেরায় রাত ১০টা নাগাদ রমেনের মোবাইলে ফোন করেন তাঁর মা। কিন্তু, কেউ ফোন ধরেনি।


 তার মিনিট দশেক পর রমেন অসুস্থ বলে ফোন যায়। পরিবারের লোকজনকে তাড়াতাড়ি সুইমিং পুলে হাজির হতে বলা হয়। খবর পেয়ে পুলিস সুইমিং পুলে পৌঁছে মৃতদেহ জল থেকে তোলে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের মের্গ পরেরদিন মৃতদেহের ময়না তদন্ত করা হয়। মৃতের বাবা দেবকুমার সামন্ত ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। খুনের পর মৃতদেহ সুইমিং পুলে ফেলে দেওয়া হয় বলে তাঁর অভিযোগ ছিল। খুনে ছেলের বন্ধু-বান্ধব ও সুইমিং কর্তৃপক্ষ জড়িত বলে জানান তিনি। মৃতের পরিবারের তরফে পরিকল্পিত খুনের অভিযোগ তোলা হয়। 


ঘটনার তদন্ত করে পুলিস খুনের অভিযোগ উড়িয়ে জলে ডুবে ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায়। পরে তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। সিআইডি সুইমিং পুলের কেয়ার টেকার গোপীমোহন চট্টোপাধ্যায় ও প্রশিক্ষক প্রসেনজিৎ সোমের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির ধারায় (৩০৪এ) চার্জশিট পেশ করে। প্রায় দেড় বছর তদন্তের পর সিবিআই খুনের দাবি খারিজ করে দিয়েছে। সিআইডির আনা গাফিলতির অভিযোগও বাতিল করে জলে ডুবে ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে বলে বর্ধমান সিজেএম আদালতে মঙ্গলবার চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করেছে।


 সিবিআইয়ের রিপোর্টের বিষয়ে বক্তব্য জানানোর জন্য কেসের অভিযোগকারীকে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ঘটনার পর তদন্তে নেমে পুলিস কেয়ার টেকার ও প্রশিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। তাদের হেফাজতেও নেওয়া হয়। ময়না তদন্তের রিপোটে জলে ডুবে রমেনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়। ফরেন্সিক ল্যাবরেটারিতে ভিসেরা পরীক্ষায় মৃতের পাকস্থলী থেকে ইথাইল অ্যালকোহল ও বালি মেলে। 


সাঁতার কাটতে গিয়ে রমেনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় পুলিস। মৃতের পরিবার তাতে সহমত পোষণ না করায় সিআইডির হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়। তদন্ত সম্পূর্ণ করে সিআইডি কেয়ার টেকার ও প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির ধারায় চার্জশিট পেশ করে। সিআইডি তদন্তে অনাস্থা প্রকাশ করে সিবিআই তদন্ত চেয়ে হাইকোটে মামলা করেন মৃত ছাত্রের বাবা। হাইকোর্ট এসপি পদমর্যাদার অফিসারকে দিয়ে তদন্তের জন্য সিবিআইকে নির্দেশ দেয়। তারপরই সিবিআই তদন্ত করে জলে ডুবে রমেনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়ে দিয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.